কুরআন ও তাফসীর

কুরআন ও তাফসীর: হিদায়াতের অবিরাম ঝরনাধারা

পবিত্র কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য অবতীর্ণ এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান এবং চিরন্তন মুজিজা। এটি কেবল পাঠ করার জন্য নয়, বরং এর প্রতিটি আয়াত গভীরভাবে উপলব্ধি করা এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই হলো প্রকৃত সার্থকতা। আর কুরআনের সেই গূঢ় রহস্য ও সঠিক মর্মার্থ বুঝতে ‘তাফসীর’ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের কোনো বিকল্প নেই।

আমাদের এই বিভাগে আমরা বিশ্ববিখ্যাত মুফাসসিরদের রচিত নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থসমূহ সংকলন করেছি। সহজ অনুবাদ থেকে শুরু করে বিস্তারিত বিশ্লেষণ সমৃদ্ধ এই বইগুলো আপনাকে কুরআনের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে।

অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরার এই যাত্রায় পবিত্র কুরআনের ছায়াতলে আপনাকে স্বাগতম। আসুন, অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ কুরআন পড়ি; আলোকিত জীবন গড়ি।



০১. কুরআনুল কারীম

অনুবাদ : ড. মুজিবুর রহমান



০২. তাইসীরুল কুরআন

অনুবাদ : অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক



০৩. কুরআন শরীফ সরল অনুবাদ

অনুবাদ : হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ



কোরআনের সহজ সরল বাংলা

অনুবাদ : হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ



০৪. কুরআনের অনুবাদ

অনুবাদ ড. জহুরুর হক



০৫. মুজামুল কুরআন বাংলা

প্রকাশনায়: ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশন এন্ড রিসার্চ সেন্টার



তাফসিরে ইবনে কাসির ইসলামি শাস্ত্রের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী একটি গ্রন্থ। হাফেজ ইমাদউদ্দীন ইবনে কাসির (রহ.) ছিলেন একাধারে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ এবং মুফাসসির। তাঁর পুরো নাম আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসির। তিনি ৭০১ হিজরি মোতাবেক ১৩০১ খ্রিস্টাব্দে সিরিয়ার দামেস্কের ‘মাজদাল’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

শৈশবেই তিনি পিতৃহারা হন এবং বড় ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে দামেস্কে শিক্ষালাভ করেন। তিনি তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আলেমদের সান্নিধ্য পান, যার মধ্যে বিখ্যাত শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) অন্যতম। তাঁর চিন্তা ও দর্শনে ইবনে তাইমিয়ার গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

তিনি ইলমে হাদিস, ফিকহ এবং ইতিহাসে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তাঁর রচিত ইতিহাস গ্রন্থ ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ বিশ্ববিখ্যাত


তাফসিরে ইবনে কাসির-এর পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য

কুরআন মাজিদের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘তাফসিরুল কুরআনিল আজিম’ (যা সাধারণভাবে ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’ নামে পরিচিত) সর্বাধিক সমাদৃত। এর বিশেষত্ব হলো এটি ‘তাফসির বিল মাসুর’ বা বর্ণনাভিত্তিক তাফসিরের সর্বোত্তম উদাহরণ।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসির: তিনি একটি আয়াতের ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট অন্য আয়াতগুলোকে প্রথমে উপস্থাপন করেছেন। এটি তাফসিরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
  • হাদিস দ্বারা ব্যাখ্যা: আয়াতের মর্মার্থ স্পষ্ট করতে তিনি অসংখ্য নির্ভরযোগ্য হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আছার (উদ্ধৃতি) উল্লেখ করেছেন।
  • হাদিসের মান যাচাই: মুহাদ্দিস হওয়ার কারণে তিনি বর্ণিত হাদিসগুলোর সত্যতা ও মান (সহিহ বা জয়িফ) যাচাই করে মন্তব্য করেছেন, যা অন্য অনেক তাফসিরে পাওয়া যায় না।
  • ইসরায়েলি বর্ণনা বর্জন: তিনি অতিরঞ্জিত বা ভিত্তিহীন ইসরায়েলি (বনি ইসরাইল সংক্রান্ত) বর্ণনা থেকে এই তাফসিরকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করেছেন এবং যেখানে এনেছেন সেখানে সেগুলোর অসারতা প্রমাণ করেছেন।
  • সহজবোধ্য ভাষা: কিতাবটি পাণ্ডিত্যপূর্ণ হলেও এর ভাষা অত্যন্ত প্রাঞ্জল, যা সাধারণ পাঠক ও গবেষক—উভয়ের জন্যই সমান উপযোগী।

সারকথা: তাফসিরে ইবনে কাসির কেবল একটি বই নয়, বরং এটি কুরআন বুঝার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আলেমদের নিকট এটি একটি আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত সকল খন্ডের ডাউনলোড লিংক হলো :

প্রথম খল্ডদ্বিতীয় খল্ডতৃতীয় খল্ডচতু‍র্থ খল্ডপঞ্চম খল্ডষষ্ঠ খল্ডসপ্তম খল্ডঅষ্টম খল্ডনবম খল্ডদশম খল্ডএকাদশ খল্ড

তাফসির ইবনে কাসির : অনুবাদক : ড. মুহাম্মাদ মুজীবুর রহমান, প্রকাশক : তাফসির পাবলিকেশন কমিটি।

ড. মুহাম্মাদ মুজীবুর রহমান অনুদিত এবং তাফসির পাবলিকেশন কমিটি কর্তৃক প্রকাশি তাফসির ইবনে কাসিরের ডাউনলোড নিংক হলো :

খণ্ড নম্বরডাউনলোড
প্রথম খণ্ড ডাউনলোড
দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড ডাউনলোড
চতুর্থ , পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম খণ্ড ডাউনলোড
অষ্টম, নবম, দশম ও একদশ খণ্ডডাউনলোড
দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ খণ্ড ডাউনলোড
চতুর্দশ খণ্ড ডাউনলোড
পঞ্চদশ খণ্ড ডাউনলোড
ষোড়ষ খণ্ড ডাউনলোড
সপ্তদশ খণ্ড ডাউনলোড
অষ্টদশ খণ্ড ডাউনলোড


তাফসির কারক : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

কুরআনুল কারীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর) বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য একটি কাজ, যা সৌদি আরবের কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স থেকেও প্রকাশিত হয়েছে।


ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক এবং মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি দীর্ঘ সময় ও শ্রমের বিনিময়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসিরের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

তাফসিরের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

এই তাফসিরটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশুদ্ধ আকিদাহ ও নির্ভরযোগ্যতা। এটি প্রধানত ‘তাফসির বিল মাসুর’ বা কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে রচিত। লেখকের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ পাঠকদের কাছে কুরআনের সঠিক ও সহজ অর্থ পৌঁছে দেওয়া।

  • সহজবোধ্য অনুবাদ: সমসাময়িক বাংলা ভাষায় এর অনুবাদ অত্যন্ত প্রাঞ্জল, যা সাধারণ পাঠক সহজেই বুঝতে পারেন।
  • সংক্ষিপ্ত ও তথ্যবহুল: প্রতিটি আয়াতের ব্যাখ্যায় দীর্ঘ আলোচনা না করে মূল বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট (শান-এ-নুযুল) তুলে ধরা হয়েছে।
  • ভ্রান্ত মতবাদ বর্জন: এই তাফসিরে ইসরায়েলি বর্ণনা বা দুর্বল হাদিসের অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়নি, বরং সহিহ দলিলের ওপর কঠোরভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • বৈশ্বিক স্বীকৃতি: এর মান ও নির্ভরযোগ্যতার কারণেই এটি মদিনার কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স থেকে সরকারিভাবে মুদ্রিত হয়ে বিশ্বজুড়ে বাংলাভাষী হাজীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণকারী এবং যারা সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চান, তাদের জন্য এই গ্রন্থটি একটি আকর দলিল হিসেবে গণ্য। তাফসিরটি ডাউনলোড করতে ক্লিক নিচের লিংকে ক্লিক করুন :

ক্র: নংখণ্ড নম্বরডাউনলোড
০১প্রথম খণ্ড ডাউনলোড
০২দ্বিতীয় খণ্ড  ডাউনলোড


তাফসির কারক : সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ.)

তাফহিমুল কুরআন আধুনিক যুগে রচিত পবিত্র কুরআনের অন্যতম প্রভাবশালী এবং বহুল পঠিত তাফসির গ্রন্থ।


সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ.) বিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, দার্শনিক এবং সংস্কারক। ১৯০৩ সালে ভারতের হায়দ্রাবাদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে তুখোড় সাংবাদিক এবং গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী লেখক। আধুনিক প্রেক্ষাপটে ইসলামি জীবনব্যবস্থাকে যৌক্তিকভাবে উপস্থাপনের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ১৯৭৯ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর লিখনী বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আধুনিক ইসলামি রেনেসাঁয় তাঁর চিন্তা গভীর প্রভাব ফেলেছে।


১৯৪২ সালে তিনি এই তাফসিরের কাজ শুরু করেন এবং প্রায় ৩০ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে এটি সম্পন্ন করেন। এটি কেবল প্রচলিত কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়, বরং সমকালীন সমস্যার আলোকে কুরআনের একটি প্রায়োগিক দিকনির্দেশনা।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা: আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাষ্ট্রনীতি এবং সমাজতত্ত্বের প্রেক্ষাপটে কুরআনের বিধানগুলোকে তিনি অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করেছেন।
  • উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য (তাফহিম): ‘তাফহিম’ শব্দের অর্থ হলো ‘বুঝিয়ে দেওয়া’। কুরআনের মূল বার্তা বা এর প্রাণসত্তাকে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে দেওয়াই ছিল এই তাফসিরের মূল লক্ষ্য।
  • ভূমিকা ও শানে নুযুল: প্রতিটি সূরার শুরুতে এর নামকরণের কারণ, নাজিলের সময়কাল এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা পাঠককে সেই সময়ের পরিবেশে নিয়ে যায়।
  • আন্দোলনমুখী দৃষ্টিভঙ্গি: তিনি কুরআনকে কেবল তিলাওয়াতের গ্রন্থ হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবের ইশতেহার হিসেবে তুলে ধরেছেন। দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টা এবং ইকামতে দ্বীনের গুরুত্ব এতে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
  • সরল ভাষা: জটিল পারিভাষিক শব্দের পরিবর্তে তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও গতিশীল ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণ শিক্ষিত মানুষের কাছেও খুব সহজে বোধগম্য।

সারসংক্ষেপ: তাফহিমুল কুরআন বর্তমান বিশ্বের বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যারা কুরআনকে একটি জীবন বিধান হিসেবে বুঝতে চান এবং বর্তমান বিশ্বের জটিল পরিস্থিতির সমাধান কুরআনের আলোকে খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি অনন্য পাঠ্য।

নিচে তাফসিরটি ডাউনলোড লিংক দেওয়া হলো :

তাফহিমূলের সচনাপত্রের লিংক

বিষয় নির্দেশকা ডাইনলোড

১ম খণ্ড। ২য় খণ্ড। ৩য় খণ্ড। ৪র্থ খণ্ড। ৫ম খণ্ড। ৬ষ্ঠ খণ্ড। ৭ম খণ্ড। ৮ম খণ্ড। ৯ম খণ্ড। ১০ম খণ্ড। ১১ম খণ্ড। ১২তম খণ্ড। ১৩তম খণ্ড। ১৪তম খণ্ড। ১৫তম খণ্ড। ১৬তম খণ্ড। ১৭তম খণ্ড। ১৮তম খণ্ড। ১৯তম খণ্ড।

সম্পূর্ন তাফসিরটি একসাথে ক্লিক করুন



তাফসির কারক : মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ)

তাফসিরে মাআরেফুল কুরআন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য একটি তাফসির গ্রন্থ।


মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ ইসলামি চিন্তাবিদ, ফকিহ এবং দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান মুফতি। ১৮৯৭ সালে ভারতের দেওবন্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন হাকিমুল উম্মত শায়খ আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর অন্যতম সুযোগ্য শিষ্য। দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তানে হিজরত করেন এবং সেখানে করাচিতে বিখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ‘দারুল উলুম করাচি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কেবল একজন আলেমই ছিলেন না, বরং পাকিস্তান আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ১৯৭৬ সালে এই মহান মনীষী ইন্তেকাল করেন।


রেডিও পাকিস্তানে কুরআনের তাফসির নিয়ে তাঁর প্রচারিত ধারাবাহিক আলোচনাগুলোই পরবর্তীকালে পরিমার্জিত হয়ে এই পূর্ণাঙ্গ তাফসিরের রূপ নেয়। এটি মোট ৮ খণ্ডে সমাপ্ত।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • শরয়ি সমাধান ও ফিকহি মাসআলা: এই তাফসিরের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, এতে প্রাসঙ্গিক আয়াতের অধীনে সমকালীন জীবনের জটিল মাসআলা এবং ফিকহি সমাধানগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
  • সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষা: মুফতি শফী (রহ.) অত্যন্ত সহজ ভাষায় এটি লিখেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ এবং উচ্চতর গবেষক—উভয়েই উপকৃত হতে পারেন।
  • হাকিমুল উম্মতের ছোঁয়া: তাঁর উস্তাদ মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর চিন্তা ও আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রতিফলন এই তাফসিরের পরতে পরতে লক্ষ্য করা যায়।
  • সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোচনা: কেবল আয়াতের শাব্দিক অর্থ নয়, বরং সেই আয়াতের আলোকে মুমিনের চরিত্র গঠন, সামাজিক সংস্কার এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির বিষয়গুলোও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
  • উপমহাদেশে জনপ্রিয়তা: বাংলা ভাষায় অনূদিত হওয়ার পর বাংলাদেশেও এটি সর্বাধিক পঠিত তাফসিরগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সহ অনেক প্রকাশনী এটি অনুবাদ করেছে।

সারকথা: যারা কুরআনের তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের ইসলামি বিধান ও আত্মশুদ্ধির পথ খুঁজতে চান, তাদের জন্য মাআরেফুল কুরআন একটি অপরিহার্য কিতাব।

তাফসিরটির বিভিন্ন খণ্ড ডাউনলোড করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন :

ক্র: নংখণ্ড নম্বরডাউনলোড
০১প্রথম খণ্ড ডাউনলোড
০২দ্বিতীয় খণ্ড ডাউনলোড
০৩তৃতীয় খণ্ড ডাউনলোড
০৪চতুর্থ খণ্ড ডাউনলোড
০৫পঞ্চম খণ্ড ডাউনলোড
০৬ষষ্ঠ খণ্ড ডাউনলোড
০৭সপ্তম খণ্ড ডাউনলোড
০৮অষ্টম খণ্ড ডাউনলোড


তাফসির কারক : সাইয়েদ কুতুব শহীদ

তাফসীর ফী যিলালিল কোরআন আধুনিক যুগের এক অনন্য ও কালজয়ী তাফসির গ্রন্থ। এটি গতানুগতিক ব্যাখ্যাগ্রন্থের ঊর্ধ্বে উঠে কুরআনের শৈল্পিক সৌন্দর্য এবং এর বিপ্লবী চেতনাকে পাঠক হৃদয়ে জীবন্ত করে তোলে।


সাইয়েদ কুতুব (১৯০৬–১৯৬৬) ছিলেন আধুনিক ইসলামি চিন্তাধারার অন্যতম প্রধান রূপকার, সাহিত্যিক এবং চিন্তাবিদ। তিনি মিশরের আসিউত প্রদেশের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

  • কর্মজীবন: কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একজন সাহিত্য সমালোচক ও কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তবে পরবর্তীকালে তিনি ইসলামি দাওয়াহ ও পুনর্জাগরণ আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন।
  • শাহাদাত: তৎকালীন মিশরীয় সরকারের রোষানলে পড়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেন এবং ১৯৬৬ সালে তাঁকে ফাঁসি দিয়ে শহীদ করা হয়। কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠেই তিনি এই অমর তাফসির গ্রন্থের বড় একটি অংশ রচনা করেন।

‘ফী যিলালিল কোরআন’ শব্দটির অর্থ হলো— ‘কুরআনের ছায়াতলে’। লেখক নিজেই বলেছেন, জীবনের এক দীর্ঘ সময় তিনি কুরআনের ছায়াতলে অতিবাহিত করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাই এই বইটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • সাহিত্যিক সৌন্দর্য: সাইয়েদ কুতুব মূলত একজন উঁচুদরের সাহিত্যিক ছিলেন। তাই এই তাফসিরের ভাষা অত্যন্ত আবেগপূর্ণ, গতিশীল এবং মোহনীয়। এটি পাঠককে কেবল জ্ঞান দেয় না, বরং কুরআনের আবহে আলোড়িত করে।
  • শৈল্পিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা: কুরআনের বর্ণনাভঙ্গি এবং এর শব্দশৈলী কীভাবে মানুষের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করে, তিনি তা অত্যন্ত নিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
  • আকিদাহ ও তাওহিদ: এতে আল্লাহর একত্ববাদ বা ‘তাওহিদ’কে জীবনের সকল ক্ষেত্রে (বিশেষ করে শাসন ও বিচার ব্যবস্থায়) একচ্ছত্র আধিপত্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
  • সমকালীন বাস্তবতায় প্রয়োগ: ইসলামকে কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব ও জীবনব্যবস্থা হিসেবে তিনি উপস্থাপন করেছেন। জাহেলিয়াতের বিপরীতে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা এই তাফসিরের অন্যতম লক্ষ্য।
  • কুরআনি পরিবেশ সৃষ্টি: তিনি আয়াতের ব্যাখ্যায় এমন এক পরিবেশ তৈরি করেন, যাতে পাঠক অনুভব করেন তিনি নিজেই সেই ওহী নাযিলের সাক্ষী এবং সম্বোধিত ব্যক্তি।

সারকথা: যারা কুরআনের অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক শক্তি এবং এর সামাজিক ও রাজনৈতিক বিপ্লবের দিকগুলো হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে চান, তাদের জন্য ‘ফী যিলালিল কোরআন’ একটি অসাধারণ দিকনির্দেশনা।

নিচে তাফসিরটি ডাউনলোড লিংক দেওয়া হলো :

প্রথম খণ্ড ডাইনলোড

দ্বিতীয় খণ্ড ডাউনলোড

তৃতীয় খণ্ড ডাউনলোড

চতুর্থ খণ্ড ডাউনলোড

পঞ্চম খণ্ড ডাউনলোড

ষষ্ঠ খণ্ড ডাউনলোড

সপ্তম খণ্ড ডাউনলোড

অষ্টম খণ্ড ডাউনলোড

নবম খণ্ড ডাউনলোড

দশম খণ্ড ডাউনলোড

একদশ খণ্ড ডাউনলোড

দ্বাদশ খণ্ড ডাউনলোড

ত্রয়োদশ খণ্ড ডাউনলোড

চতুর্দশ খণ্ড ডাউনলোড

পঞ্চদশ খণ্ড ডাউনলোড

ষোড়ষ খণ্ড ডাউনলোড

সপ্তদশ খণ্ড ডাউনলোড

অষ্টদশ খণ্ড ডাউনলোড

উনবিংশ খণ্ড ডাউনলোড

বিশতম খণ্ড ডাউনলোড

একুশতম খণ্ড ডাউনলোড

বাইশতম খণ্ড ডাউনলোড



তাফসির কারক : আল্লামা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন জারীর তাবারী (রহ.)

ইসলামি তাফসির শাস্ত্রের ইতিহাসে তাফসীরে তাবারী এক কিংবদন্তিতুল্য নাম। একে বলা হয় ‘উম্মুত তাফসির’ বা সকল তাফসিরের জননী। নিচে এই মহান গ্রন্থ এবং এর সংকলক সম্পর্কে একটি চমৎকার ভূমিকা তুলে ধরা হলো:

তাফসিরকারকের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

এই কালজয়ী গ্রন্থের রচয়িতা হলেন আল্লামা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর তাবারী (রহ.)। তিনি ২২৪ হিজরিতে ইরানের তাবারিস্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কেবল একজন মুহাদ্দিস বা মুফাসসির ছিলেন না, বরং একাধারে ইতিহাসবিদ, ফকিহ এবং সাহিত্যিক হিসেবেও তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল কিংবদন্তিতুল্য। তাঁর প্রখর মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে তিনি ‘ইমামুল মুফাসসিরিন’ (তাফসিরকারকদের নেতা) উপাধিতে ভূষিত হন। ৩১০ হিজরিতে বাগদাদে এই মহান মনিষী ইন্তেকাল করেন।


তাফসীরে তাবারী: শ্রেষ্ঠত্বের আধার

এই কিতাবটির প্রকৃত নাম হলো ‘জামিঊল বায়ান আন তাবীলি আইয়িল কুরআন’। তাফসিরের জগতে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ এবং পদ্ধতিগত সংকলন হিসেবে স্বীকৃত। এর প্রধান কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

  • তাফসীরে বিল-মা’ছুর: এই কিতাবটি মূলত ‘তাফসীরে বিল-মা’ছুর’ বা বর্ণনাভিত্তিক তাফসিরের প্রধান উৎস। এতে প্রতিটি আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসুলুল্লাহ (সা.), সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবিঈগণের বর্ণনা ও সনদ (সূত্র) বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: ইমাম তাবারী (রহ.) আয়াতের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য প্রাচীন আরবি কবিতা, ব্যাকরণ এবং ভাষাতাত্ত্বিক যুক্তি ব্যবহার করেছেন।
  • ফিকহি ও ঐতিহাসিক তথ্য: কুরআনের বিধানগত আয়াতের ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন ইমামদের মতামত তুলে ধরেছেন এবং প্রয়োজনে ঐতিহাসিক ঘটনার গভীর বিশ্লেষণ করেছেন।
  • পরবর্তী তাফসিরের উৎস: ইমাম ইবনে কাসির, কুরতুবি এবং জালালুদ্দিন সুয়ূতীসহ পরবর্তী যুগের প্রায় সকল শ্রেষ্ঠ মুফাসসিরই তাফসীরে তাবারীকে তাঁদের প্রধান রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

ইসলামি জ্ঞানের বিশালত্ব এবং পবিত্র কুরআনের সঠিক মর্ম অনুধাবনের জন্য তাফসীরে তাবারী একটি অপরিহার্য বিশ্বকোষ। গবেষকগণের মতে, যদি এই কিতাবটি না থাকত, তবে তাফসির শাস্ত্রের অনেক মূল্যবান তথ্য আজ আমাদের কাছে পৌঁছাত না।

ডাউনলোড:

ক্র: নংখণ্ড নম্বরডাউনলোড
০১প্রথম খণ্ড ডাউনলোড
০২দ্বিতীয় খণ্ডডাউনলোড
০৩তৃতীয় খণ্ডডাউনলোড
০৪চতুর্থ খণ্ডডাউনলোড
০৫পঞ্চম খণ্ডডাউনলোড
০৬ষষ্ঠ খণ্ডডাউনলোড
০৭সপ্তম খণ্ডডাউনলোড
০৮অষ্টম খণ্ডডাউনলোড
০৯নবম খণ্ডডাউনলোড 


সহজে পড়ুন এবং ডাউনলোড করুন আপনার প্রিয় ইসলামিক বই।

error: Content is protected !!