ইসলাম একটি অখণ্ড জীবনব্যবস্থা, যার মূল ভিত্তি হলো একত্ববাদ এবং ভ্রাতৃত্ব। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মুমিনদের রজ্জুকে শক্ত করে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হতে নিষেধ করেছেন। তবে ইতিহাসের পরিক্রমায় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ‘ফির্কা’ বা দলীয় বিভাজন একটি কঠিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে অনৈক্য বা নতুন নতুন ফির্কা তৈরি করা ইসলামের চিরন্তন আদর্শের পরিপন্থী। ইসলাম কোনো বিচ্ছিন্ন মতবাদ নয়, বরং এটি একটি সুসংহত ‘জামায়াত’ বা ঐক্যবদ্ধ উম্মাহর দাবি রাখে। এই উম্মাহ যখনই বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তখনই তাদের শক্তিতে ভাটা পড়েছে এবং বিভ্রান্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
একতা ও জামায়াতের গুরুত্ব:
ইসলামি জীবনদর্শনে জামায়াতবদ্ধ থাকা কেবল একটি সামাজিক রীতি নয়, বরং এটি একটি ইবাদত ও বাধ্যতামূলক বিধান। নিচে পয়েন্ট আকারে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলো:
- ঐক্যের কুরআনি নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন-
- “তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত করে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)।
- অর্থাৎ, বিভিন্ন ফির্কা তৈরি করা আল্লাহর নির্দেশের সরাসরি লঙ্ঘন।
- বিভক্তির পরিণাম: নবি করিম (সা.) বিভক্তি ও দলাদলি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। উম্মাহর মধ্যে যখনই কোনো নতুন ফির্কার সৃষ্টি হয়, তখন তারা মূল স্রোতধারা থেকে বিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মানেই শয়তানের সহজ শিকারে পরিণত হওয়া।
- হকের দিশারি জামায়াত: ইসলামের সঠিক পথ বা ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’ চেনার উপায় হলো সেই জামায়াতের সাথে থাকা, যা সাহাবায়ে কেরাম এবং সালাফে সালেহীনদের আদর্শ অনুসরণ করে। বিচ্ছিন্ন কোনো মতবাদ বা নতুন সৃষ্ট দল কখনোই এককভাবে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।
- নিরাপদ আশ্রয়: নেক আমল এবং দ্বীনি দাওয়াতের কাজে জামায়াতবদ্ধ জীবন একজন মুমিনকে আত্মিক ও বৈষয়িক শক্তি দান করে। সংঘবদ্ধ থাকা অবস্থায় মুমিন যতটা নিরাপদে দ্বীন পালন করতে পারে, বিচ্ছিন্ন অবস্থায় তার ঈমানি শক্তি ততটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।
পরিশেষে বলা যায়, বিভিন্ন ফির্কা বা দলের অন্ধ অনুসরণ উম্মাহর ঐক্যকে বিনষ্ট করে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়। ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে গঠিত হকের জামায়াতের মধ্যে। অতএব, দলাদলি ত্যাগ করে সিরাতুল মুস্তাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত সঠিক জামায়াতের সাথে থাকাই হচ্ছে প্রকৃত ইসলামি জীবনপদ্ধতি। এই সচেতনতাই আমাদের আধ্যাত্মিক মুক্তি ও উম্মাহর পুনর্জাগরণ নিশ্চিত করতে পারে।
বিভিন্ন ফির্কা বা দল সম্পর্কিত বই :
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আক্বীদার সংক্ষিপ্ত মূলনীতি
লেখক : নাসের ইবন আবদুল করীম

কুরআন-সুন্নাহর আলকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা
লেখক : মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন.

জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপন গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
লেখক : ইমামুদ্দিন বিন আব্দুল বাছীর.

জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপনের অপরিহার্যতা
লেখক : নুর আয়েশা সিদ্দিকা

ফির্কাহ না-জিয়াহ ও সাহায্য প্রাপ্ত জামায়াতের মতাদর্শ
লেখক : মুহাম্মদ জামীল যইনু

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদা
লেখক : আবু যাফর আহমাদ আত ত্বহাবী

আমি কেন জামায়াতে ইসলামী করি
লেখক : আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

গভীর ষড়যন্ত্রের কবলে আহলেহাদীছ আন্দোলন
লেখক : মুজাফফর বিন মুহসিন

আহলে হাদীসদের সংগ্রামী চেতনা
লেখক : মুজাফফর বিন মুহসিন

জামায়াতে ইসলামীর কর্মনীতি
লেখক : অধ্যাপক গোলাম আযম.

জামায়াতে ইসলামীর বৈশিষ্ট্য
লেখক : অধ্যাপক গোলাম আযম.

জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস
লেখক : আব্বাস আলী খান

জামায়াতে ইসলামীর কার্যবিবরণী ১ম খণ্ড
লেখক : আবদুল মান্নান তালিব

জামায়াতে ইসলামীর কার্যবিবরণী ২য় খণ্ড
লেখক : আবদুল মান্নান তালিব.

জামায়াত ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথাঃ জালালাবাদে ইসলামী আন্দলন
লেখক : ফজলুর রহমান

তাবলীগ জামায়াতের অন্তরালে
লেখক : আল মেহেদী

তাবলিগ জামাতের অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ
লেখক : মৌলভী মুহাম্মদ ইব্রাহীম

বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী
লেখক : অধ্যাপক গোলাম আযম

বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী
লেখক : মাযহারুল ইসলাম
